Colonel Narendra Kumar, passed awayMiscellaneous 

সিয়াচিনের নায়ক কর্নেল নরেন্দ্র কুমার প্রয়াত

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ ‘বুল’ নামে খ্যাত কর্নেল নরেন্দ্র কুমার দিল্লির আর্মি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। আট বছর ধরে নয়াদিল্লিতে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭বছর। তিনি সিয়াচেন হিরো নামে পরিচিত। আজ থেকে প্রায় ৩৬ বছর আগে সিয়াচেন হিমবাহ সম্পর্কে ভারতীয় সেনারা তেমন কিছু ভাবেনি।

পাকিস্তানের এই সিয়াচেন ছিনিয়ে নেওয়ার গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে ভারত সচেতন ছিল না। নরেন্দ্র কুমার পাকিস্তানের গোপন নকশা জেনে ফেলেছিলেন। তিনি পাহাড়ে অভিযানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি মাউন্ট এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা এমনকি আল্পসেও অভিযান করেছিলেন। ১৯৮১ সালে বিদেশী পর্যটকদের সঙ্গে এরকম একটি অভিযানের সময় তিনি এক জার্মান পর্বতারোহীর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। নরেন্দ্র কুমার সেই জার্মান বন্ধুর কাছ থেকে উত্তর কাশ্মীরের মানচিত্র দেখে হতবাক হয়ে গেলেন। মানচিত্র থেকে এটা পরিষ্কার ছিল যে, ভারত যতটা মনে করে তার থেকে বেশি উত্তর কাশ্মীরের অংশ পাকিস্তান দখল করে রেখেছে।

সেনাবাহিনীকে বিষয়টি জানানোর পরে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পাকিস্তান আমেরিকার সহায়তায় সিয়াচেন এবং কারাকরামসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিখর দখল করতে মরিয়া ছিল। এরপরে, নরেন্দ্র কুমার বহুবার পর্যটকদের সাথে সেই রাস্তাটি অতিক্রম করেছিলেন। তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নজরেও পড়েছিলেন। তবে ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে আত্মপরিচয় দেওয়ায় প্রতিপক্ষকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিপ্রায় ধরতে দেননি। আসলে তাঁর কাজটি ছিল পাকিস্তান এই অঞ্চলে কতটা সক্রিয় ছিল সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে আলোচনার পরে সেনাবাহিনী সিয়াচেন ছিনিয়ে নিতে প্রস্তুত হয়েছিল। নরেন্দ্র কুমার, মেজর কুলকার্নির নেতৃত্বে ভারত অপারেশন মেঘদূত চালু করে। ভারত সালতরো রেঞ্জ দখল করে নেয়। এই পরিসর থেকে পুরো সিয়াচেন ভারতীয় সেনাবাহিনী দখল করতে পারে। পশ্চিমে পাকিস্তান, পূর্বে চীন। পাকিস্তান সিয়াচেন আক্রমণ চালানোর প্রায় এক মাস আগে ভারত পুরো অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল।

নরেন্দ্র কুমারের তৎপরতা এবং বুদ্ধিমত্তার কারণে এটি সম্ভব হয়েছিল। তাঁর সম্মানে ভারতীয় সেনা সিয়াচেনে কুমার বেস নামে একটি বেস ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। কীর্তি চক্র ছাড়াও তিনি বিশিষ্ট পরিষেবা পদক, পদ্মশ্রী, অর্জুন পুরষ্কার এবং ম্যাকগ্রেগোর পদকে ভূষিত করা হয় তাঁকে। যদিও তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্নেল, সিয়াচেন হিমবাহের একজন এক্সপ্লোরার এবং পর্যবেক্ষক হিসাবে পরিচিত।

Related posts

Leave a Comment